সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের এক মাত্র উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যাপিঠ ‘‘রতারগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ’’ 01/01/1963 ইং সনে এলাকার বিশিষ্ঠ শিক্ষানুরাগী ব্যাক্তি জনাব শেখ মোঃ ইজ্জত আলী সাহেব এর উদ্দ্যোগে এলাকার গনমান্য ব্যাক্তিগণের সম্মিলিত প্রচেষ্ঠায় উক্ত প্রতিষ্ঠানটি আত্মপ্রকাশ করে। অল্পসংখক ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়। এ অবস্থায় ১৯৭১ সনে মহান মুক্তিযোদ্ধা চলা কালীন সময়ে শেখ মোঃ ইজ্জত আলী সাহেব মুক্তিযোদ্ধে অংশ গ্রহণ করায় বিদ্যালয়টি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোঃ ইজ্জত আলী সাহেব এর উদ্দ্যোগে পুনরায় ১৯৭২ সালে বিদ্যালয়টি চালু করেন। পর্যায়ক্রমে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চালু করেন। উল্লেখ্য ঐ সময় ৮ম শ্রেণিতে কিছু ছাত্র মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।
1972 সনে বিদ্যালয়টি চালু করার সময় এই প্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের তেমন সুব্যবস্থা ছিল না, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন দেওয়ার মত কোন তহবিল ছিল না। তখন বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোঃ ইজ্জত আলী সাহেব এই সমস্যা সামাধানের লক্ষ্যে নিজ উদ্দ্যোগে, মুরব্বি ও অধ্যয়নরত ছাত্রদের নিয়ে আশেপাশের গ্রাম হতে নিজে কাঁধে করে বাঁশ সংগ্রহ করেন। তাছাড়া বিদ্যালয়ের পাশের গর্তগুলো ছাত্রসহ নিজে মাটি কেটে ভরাট করেন। একজন মানুষ কতটুকু শিক্ষানুরাগী ব্যাক্তি হলে বিদ্যালয়ের উন্নয়নে নিজে এরকম ভূমিকা রাখতে পারেন! সেই সময় সরকারী চাকরি পাওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে সরকারী চাকুরীতে যোগদান করেননি। অর্থের প্রতি লোভ না করে এলাকার শিক্ষার উন্নয়নের স্বার্থে কঠোর পরিশ্রম করে যান। উল্লেখ্য যে, অনেক সময় শিক্ষকদের বেতন দিতে গিয়ে বিদ্যালয়ের তহবিলে টাকা না থাকায় নিজে টাকা দিয়ে বেতন দেন। উক্ত টাকা পরবর্তিতে উনি প্রতিষ্ঠান হতে নেননি। এলাকায় শিক্ষিত ব্যক্তি না থাকায় অন্য জেলা হতে শিক্ষক এনে নিজ বাড়িতে লজিং রেখেছিলেন।
জনাব বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোঃ ইজ্জত আলী সাহেব এর শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি পাশ থাকায়, পরবর্তিতে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অনুমতির জন্য বি.এ পাস প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে মির্জা তৌফিক হাসান বেগ কে 17-11-1973 সনে নিয়োগ দেওয়া হয়। উনার প্রচেষ্ঠায় 01-01-1975 সনে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে অনুমোদন লাভ করে। উক্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন সৎ, আদর্শ ও নিবেদিত প্রাণ ব্যাক্তি হওয়ায় অল্প সময়েই প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদন পায়।
এইভাবে পরবর্তিতে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানটি নিম্ন মাধ্যমিক হতে মাধ্যমিক পর্যায় এবং বর্তমানে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নতি লাভ করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে মাধ্যমিক পর্যায়ে মানবিক বিভাগ, বিজ্ঞান বিভাগ ও বাণিজ্য বিভাগ চালু রয়েছে এবং উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে মানবিক বিভাগ চালু আছে।
নিম্নে প্রতিষ্ঠানটির শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত তথ্যাদি উপস্থাপন করা হলঃ
1। নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথম স্বীকৃতির তারিখঃ 01/01/1975 ইং
নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসেবে প্রথম এমপিওভুক্তির তারিখঃ 01/09/1985
2। মাধ্যমিক পর্যায় অনুমতির তারিখঃ 19/12/1990
স্বীকৃতির তারিখঃ 31/12/1991 ইং
এমপিওভুক্তির তারিখঃ 01/10/1993 ইং
3। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠদানের অনুমতির তারিখঃ 21/06/2015 ইং
সিলেট শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক পাঠদানের অনুমতির তারিখঃ 04/02/2016 ইং
পাঠদানের কার্যক্রম শুরু হয়ঃ 01/07/2016 ইং
